চলুন, একেবারে কাছ থেকে দেখি দুই দলের গতির গিয়ারগুলো কীভাবে একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যায়। বেলজিয়াম এই পুরনো লাল শয়তানরা, ডি ব্রুইনের গোড়ালির কারুকাজ এখনো সার্জিক্যাল ছুরির মতো সূক্ষ্ম থ্রু বল বের করতে পারে, কিন্তু পুরো দল যখন আক্রমণ তৃতীয়াংশে এগোয়, তখন একটা রোগে ভোগে—আমি একে বলি “আড়াআড়ি পাসের নির্ভরতা”। প্রত্যাশিত গোলের সংখ্যা সুন্দরভাবে জমে ওঠে, কিন্তু বাস্তব রূপান্তর হার সবসময়ই ০.১-এর আশেপাশে দুলতে থাকে, কারণ বক্সের মধ্যে সেই একেবারে কাজের কথা শেষ করে দেওয়া মানুষটার অভাব। লুকাকুর পিভট-ভূমিকা যখন পেশির জঙ্গলে ঘিরে ফেলা হয়, তখন বেলজিয়ামের হাতে শুধু বাইরের শটে শট নেওয়া ছাড়া আর কিছু থাকে না—যা নাকি নিউহ্যাভনের গাংচিলকেও চাপের প্রতিক্রিয়ায় উড়িয়ে দিতে পারে। আর সেনেগাল? ওরা চলে একেবারে অন্য অপারেটিং সিস্টেমে: গেয়ে আর কুয়াতে মাঝমাঠে যেন দুটো মাংসকাটা মেশিন, পুরো দল যখন গুটিয়ে দাঁড়ায় তখন PPDA ৮.৮ পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায়, আর ডিফেন্সিভ তৃতীয়াংশটা এমন ঠাসা থাকে, যেন কোপেনহেগেনের ভোরের ব্যস্ত সাইকেল লেন। তারা বলের দখল ছেড়ে দিতেই আপত্তি করে না, বরং প্রতিপক্ষ এগিয়ে এসে যে ফাঁকা আকাশ তৈরি করে, সেটাই তারা উপভোগ করে—সার আর দিয়াত্তা যখন গতি তোলে, বেলজিয়ামের দুই সেন্টার-ব্যাকের ঘুরে ফিরে追赶 করা অনেক সময় উশে প্রণালীর চেয়েও চওড়া ফাঁক ফেলে দিতে পারে।
তবে ঠিক এই কারণেই ড্র-টাই যেন জোয়ার সরে গেলে দেখা দেওয়া পাথরের মতো ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে। বেলজিয়াম পুরোপুরি সামনে উঠতে সাহস পায় না, কারণ কনট্রায় আঘাত খাওয়ার ভয় আছে; সেনেগালও সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না, কারণ তাহলে গঠন ভেঙে পড়তে পারে। দুই দলই প্রথম ভুলটা করতে চায় না, তাই প্রথমার্ধে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি একটা পরীক্ষামূলক দাবার মতো, যেখানে আসল মারকাটারি চালগুলো শেষ ২০ মিনিটের জন্য লুকিয়ে রাখা থাকে। কিন্তু ৭০ মিনিট পর্যন্ত যদি স্কোরশিটে শূন্যই থাকে, তাহলে দুই পক্ষই একধরনের সূক্ষ্ম সমঝোতায় ঢুকে পড়ে—বেলজিয়াম হিসেব কষে দেখে ড্র হলেও পরে বাড়তি সময়ে লড়া যাবে, সেনেগাল ভাবে, পেনাল্টিতে গড়ালে সেটা অর্ধেক জয়ের মতোই। নকআউট পর্বের এই মানসিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাকে আঠালো আটার মতো করে ফেলে, গোল যেন কুণ্ঠিত হয়ে বেরোতেই চায় না।
ডেটার দিক থেকেও এই সম্ভাবনাকেই হালকা পাশবাতাস দিচ্ছে। বেলজিয়ামের সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে, কম্প্যাক্টভাবে গুটিয়ে থাকা ডিফেন্সের বিপক্ষে ওপেন-প্লে কনভার্সন রেট বেশ স্পষ্টভাবেই নেমে গেছে, আর সেনেগালের আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ড্র-এর হারও কম নয়—ওরা জানেই কীভাবে ম্যাচকে কাদামাটিতে নামিয়ে আনতে হয়। দুই দলের প্রত্যাশিত গোলের পার্থক্যও খুব বেশি নয়, অর্থাৎ প্রথমার্ধে যদি জট বাধে, তাহলে দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই “আগে কার্ড দেখাব না” ধরনের রক্ষণশীল চক্রে ঢুকে পড়তে পারে। ড্র, সম্ভাবনার হিসেবে, সবচেয়ে চমকপ্রদ বিকল্প নয়, কিন্তু এটিই সবচেয়ে সহজে অবহেলিত ছায়া।
অবশ্য ফুটবল জিনিসটা সবসময়ই মুখে চুনকালি লাগাতে ভালোবাসে। যদি ডি ব্রুইনে এক দৌড়ে ফ্রি-কিক সরাসরি জালে পাঠিয়ে দেন, কিংবা মানে বদলি নেমে এক ঝলকে জ্বলে ওঠেন, তাহলে ড্র-কে হয়তো আগেভাগেই উশে প্রণালীর বুকে শুইয়ে দিতে হবে। কিন্তু ড্র ধরার মানে হলো তুলনামূলকভাবে বেশি সম্ভাবনাময় এক স্ক্রিপ্ট বেছে নেওয়া—নকআউটের শ্বাসরুদ্ধকর চাপ দুই দলকেই আগে না হারার দিকে ঠেলে দেয়, জেতার ঝুঁকি নেওয়ার দিকে নয়। স্কোল! আশা করি ম্যাচটা ডেনমার্কের শরতের রাতের মতো লম্বা আর নিরাসক্তই হবে—আমি ঠিক সেটাই চাই।