মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া লড়াইটা সহজে গোলশূন্য আটকে থাকা কঠিন, ২.২৫-এর বেশি গোলের দিকটাই বেশ যুক্তিসঙ্গত
চারের বেশি বিশ্বকাপ কভার করা এক পুরোনো স্কাউটের সোজাসাপ্টা কথা: শুধু দুই দলের ডিফেন্সিভ র্যাঙ্কিং দেখে ভুল করবেন না। মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ওভার ২.২৫-এ খুব বেশি দোলাচলে যাওয়ার দরকার নেই; সাধারণ রেফারেন্স হিসেবে এটা বেশ নিরাপদ একটি দিক।
আগে দেখি কেন ম্যাচটা আটকে থাকা কঠিন: এই দুই দলই আক্রমণনির্ভর, রক্ষণে কিছুটা দুর্বল। আর এই ম্যাচে কারও পক্ষেই হেরে যাওয়া চলবে না, তাই খেলার ধারা খুব বেশি সতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা কম। মেক্সিকো গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করতে চাইবে, তাই তারা সম্ভবত বল দখলে রেখে পাসিং ও কম্বিনেশন ফুটবল খেলবে, খুব বেশি পিছিয়ে পড়ে খেলবে না। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া মূলত কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভর করে খেলে; আপনি যদি উপরে উঠে চাপ দেন, তারা তখনই আপনার পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। সন হিউং-মিন আর হোয়াং হি-চানের গতি-জুটি দৌড়ে উঠলে মেক্সিকোর বয়স্ক ডিফেন্সের জন্য ফিরে আসা বেশ কষ্টকর হবে, তাই কাউন্টার থেকে গোল হওয়ার সম্ভাবনা কম নয়।
এবার দুই দলের রক্ষণভাগ দেখলে, দু’পক্ষেরই বেশ স্পষ্ট দুর্বলতা আছে। মেক্সিকোর ব্যাকলাইন তুলনামূলকভাবে বয়স্ক, ঘুরে দাঁড়াতে ধীর, আর এয়ারিয়াল বলেও খুব শক্ত নয়—গতি-নির্ভর আক্রমণের বিপক্ষে তারা সবচেয়ে বেশি ভোগে। দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্সও খুব স্থিতিশীল নয়; প্রথম ম্যাচেই চেক প্রজাতন্ত্রের উচ্চতার সুবিধা নিয়ে তারা বেশ সমস্যায় পড়েছিল। মেক্সিকোর ছোট-ছোট দ্রুত পাস আর কম্বিনেশন ফুটবলের বিপক্ষে তাদের ডিফেন্সিংয়ে চাপ বাড়বে, গোল হজমের ঝুঁকিও কম নয়।
আরও আছে সেট-পিস। দুই দলই সেট-পিস থেকে গোল করতে বেশ দক্ষ। এই ম্যাচে লড়াইয়ের তীব্রতা কম থাকার কথা নয়; ফাউল আর কর্নারও কম হবে না। খুব অল্প কয়েকটি সুযোগই গোল এনে দিতে পারে। সামগ্রিকভাবে, ম্যাচের গতি সম্ভবত ধীর হবে না। দুই দলেরই আক্রমণের আলাদা অস্ত্র আছে, তাই মোট গোল ২.২৫-এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ উঁচু। অবশ্য ফুটবলে শতভাগ নিশ্চিত কিছু নেই, তবে কৌশল আর বর্তমান ফর্ম বিচার করলে এই দিকটি বেশ ভ্যালু-ফর-মানি।