আরএফআই কিলিয়ান এমবাপের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে, যেখানে তিনি আবারও বিশ্বকাপ এবং ব্যালন ডি'অর নিয়ে কথা বলেছেন।

প্রশ্ন: ব্যালন ডি'অর কি আপনার কাছে এক ধরনের আসক্তি?
এমবাপে: না। আমার মনে হয়, ব্যালন ডি'অর যেকোনো খেলোয়াড়ের, যেকোনো প্রতিযোগীর লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু একে আসক্তি বলা যায় না।
প্রশ্ন: এ বছরের ব্যালন ডি'অরের দৌড়ে আপনি আছেন। আপনার কি মনে হয়, এবার আপনার বছর? কেন?
এমবাপে: ব্যক্তিগতভাবে আমার দারুণ একটি বছর কেটেছে। আমি জানি, ব্যালন ডি'অরের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড—সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে (বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং লা লিগা) আমি সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে শেষ করেছি। আমার মনে হয়, এটি আমার জন্য খুব ভালো একটি বছর হতে পারে, আর তা নিয়ে আমি বেশ ভালো অনুভব করছি।
প্রশ্ন: অনেকে বলছেন, এ বছরের প্রতিযোগিতা নজিরবিহীনভাবে তীব্র।
এমবাপে: হ্যাঁ, সবাই সেটাই বলছে। ব্যালন ডি'অরের পুরো ইতিহাস আমি জানি না, তবে মানুষ বলছে এ বছর প্রতিযোগিতা ভীষণ কঠিন। এটা সত্যিই দারুণ—প্রতিযোগী হোক বা দর্শক, দু’দিক থেকেই এটি রোমাঞ্চকর, আর সমর্থকদের জন্যও বড় বিনোদন।
প্রশ্ন: যদি এ বছরটা আপনার না হয়, তাহলে কি আপনি হতাশ হবেন? এটি ইতিমধ্যেই ব্যালন ডি'অরের জন্য আপনার নবম মনোনয়ন।
এমবাপে: অবশ্যই। যেকোনো প্রতিযোগীর ক্ষেত্রেই, না জিতলে হতাশা থাকে। কিন্তু এরপরও আমার লড়াই করার ইচ্ছা আবার নতুন করে জেগে উঠবে। তবে এখন আপাতত আমাদের কেবল চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
প্রশ্ন: আমরা প্রায়ই আপনাকে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করতে শুনি—যেমন বলা যে গত মৌসুমে আপনার চেয়ে ভালো কেউ ছিল না—যা ফ্রান্সের কিছু মানুষের মধ্যে আলোড়ন তুলেছিল?
এমবাপে: হ্যাঁ। ফ্রান্সে মানুষকে চমকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই আছে, আর আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। সবাই আমার সঙ্গে একমত হোক—এমনটা আমি কখনোই আশা করিনি, কারণ সেটা একেবারেই সম্ভব নয়। তবে আমি নিজেকে অন্য কেউ হিসেবে দেখাতেও রাজি নই। আমি শুধু নিজের মতো থাকার চেষ্টা করি—আমার গুণ আর দুর্বলতা, সাফল্য আর ব্যর্থতাসহ—আর সামনে এগিয়ে যাই।
প্রশ্ন: আবারও ব্যালন ডি'অর প্রসঙ্গে ফিরে আসি, কাতার বিশ্বকাপের পর অনেক সময় কেটে গেছে। আপনি কি সেই অভিজ্ঞতা পুরোপুরি মেনে নিতে পেরেছেন? ব্যক্তিগতভাবে এটি ছিল নিখুঁত, কিন্তু সামগ্রিকভাবে কিছুটা হতাশাজনক ছিল কি?
এমবাপে: আমি একে হতাশাজনক বলব না। যখনই আপনি জিততে পারেন না, তখনই আফসোস থাকে। তবে আমি মনে করি, আমরা ফ্রান্সের খুব ইতিবাচক একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরেছিলাম; আমরা ছিলাম দেখার মতো, রোমাঞ্চকর একটি দল। আমার মনে হয়, ফরাসি মানুষ আমাদের খেলা দেখে দারুণ সময় কাটিয়েছেন, আর সারা বিশ্বের সমর্থকেরাও আমাদের ম্যাচগুলো উপভোগ করেছেন। শেষ পর্যন্ত কেবল একটি দলই ট্রফি তুলতে পারে। আমরা সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব এবং আবার চেষ্টা করব।
ব্যক্তিগতভাবে, আমি বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছিলাম। তখন এসবের গুরুত্ব কতটা, তা আপনি সব সময় টের পান না—বুঝতেই পারছেন, যখন আপনি টুর্নামেন্টের মধ্যে থাকেন, তখন পুরো মনোযোগ থাকে পরের ম্যাচ আর পরের গোলে। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর, ছুটিতে গিয়ে যখন সবাই এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার প্রসঙ্গ উঠল, তখনই আমি সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারলাম বিশ্বকাপ কত বিশাল এক আসর। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট, আর এটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলে। ব্যালন ডি'অরের লড়াইয়েও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
প্রশ্ন: আপনার মতে, ব্যালন ডি'অর কি কেবলই একটি ব্যক্তিগত সম্মান?
এমবাপে: হ্যাঁ। অক্টোবরে সেই খামে থাকে একটি নাম, পুরো দলের নাম নয়। স্বাভাবিকভাবেই, সমষ্টিগত অবদানকে উপেক্ষা করা যায় না, কিন্তু মানুষ শেষে যা মনে রাখে, তা হলো মাঠে একজন খেলোয়াড়ের চোখধাঁধানো ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স।




